দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বকাপ, ইউরো, নেশনস লিগ, অলিম্পিক এবং বিভিন্ন বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা—সব মিলিয়ে গত পাঁচ বছরে ১৬টি আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতে বিশ্ব ফুটবলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে স্পেন। পুরুষ ও নারী—দুই বিভাগেই ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শক্তিশালী যুব উন্নয়ন ব্যবস্থা এবং নির্দিষ্ট ফুটবল দর্শনকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
রোববার (১৯ জুলাই) নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। এর আগে ২০২৪ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর এটি তাদের সাম্প্রতিক সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক যোগ করেছে।
এই শিরোপার মধ্য দিয়ে স্পেন প্রথম দেশ হিসেবে একই সময়ে পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপের শিরোপাধারী হওয়ার কীর্তি গড়েছে। ২০২৩ সালে নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল স্পেনের নারী দল।
এছাড়া পুরুষ দল ২০২৩ সালে উয়েফা নেশনস লিগ, ২০২৪ সালে ইউরো এবং অলিম্পিকের স্বর্ণপদক জিতেছে। অন্যদিকে নারী দল ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টানা দুইবার নেশনস লিগের শিরোপা জেতে। সব মিলিয়ে ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে অনূর্ধ্ব-১৭ থেকে সিনিয়র পর্যায় পর্যন্ত ১৬টি আন্তর্জাতিক শিরোপা ঘরে তুলেছে স্পেন।
স্প্যানিশ ফুটবল বিশ্লেষক গুইলেম বালাগ বিবিসিকে বলেন, ‘এটি নিছক সাফল্য নয়, এটি আধিপত্য। আমাদের ফুটবল সংস্কৃতি, পরিকল্পনা এবং দর্শনের ফল এটি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ধারাবাহিকতা যেন থেমে না যায়।’
বিশ্লেষকদের মতে, এই সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি ছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বরে লুইস দে লা ফুয়েন্তেকে জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ। কাতার বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকে বিদায়ের পর তার দায়িত্ব গ্রহণকে শুরুতে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হলেও তার অধীনেই স্পেন নেশনস লিগ, ইউরো এবং বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করে।
স্পেনের সাবেক মিডফিল্ডার হুয়ান মাতা বলেন, দে লা ফুয়েন্তে যুব পর্যায়ে দীর্ঘদিন কাজ করায় খেলোয়াড়দের সম্পর্কে তার গভীর ধারণা ছিল। ফলে তিনি এমন একটি দল গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন, যা শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের জন্যও প্রস্তুত।
ফাইনাল জয়ের পর দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘ম্যাচ শেষে কয়েকজন খেলোয়াড় আমাকে বলেছে, আমরা সবকিছু জিতে ফেলেছি, এখন আর কী জেতার বাকি? তখন আমরা বলেছি, সামনে সেপ্টেম্বরে আরেকটি ম্যাচ আছে। এই দলের ক্ষুধা এখনো শেষ হয়নি।’
স্পেনের নারী ফুটবলের উত্থানও সমানভাবে নজরকাড়া। গত এক দশকে নারী ফুটবলের অবকাঠামো, একাডেমি, বয়সভিত্তিক দল এবং পেশাদার পরিবেশে ব্যাপক বিনিয়োগের সুফল মিলেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
সাবেক স্প্যানিশ ফুটবলার মারিয়া গারিদো বলেন, কয়েক বছর আগেও নারী ফুটবলে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ছিল না। কিন্তু গত পাঁচ বছরে একাডেমি, প্রশিক্ষণব্যবস্থা ও অবকাঠামোয় বড় পরিবর্তন এসেছে, যা নারী ফুটবলের মান আমূল বদলে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্পেনের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পুরুষ দলে লামিনে ইয়ামাল ও পাউ কুবারসির মতো তরুণ প্রতিভা এবং নারী দলে ভিকি লোপেজ ও সালমা পারালুয়েলোর মতো ফুটবলাররা আগামী দিনের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করছেন।
এই বিশ্বকাপে স্পেনের আধিপত্যের আরেকটি পরিসংখ্যানও উল্লেখযোগ্য। পুরো টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষের মাত্র ১০টি শটের মুখোমুখি হয়েছে তারা। সাবেক ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জো হার্টের মতে, বর্তমান সময়ে স্পেনের খেলার ধরন ও নিয়ন্ত্রণের ধারেকাছে অন্য কোনো দল পৌঁছাতে পারেনি।
ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক তারকা থিয়েরি অঁরি মনে করেন, স্পেনের এই সাফল্য কাকতালীয় নয়। তার ভাষায়, ‘তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সুসংগঠিত পদ্ধতি। এখন তারা প্রতিটি পর্যায়ে জিততে শিখেছে, আর সেই মানসিকতাই তাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।’
এমএম/